ট্রাফিক লাইটের আত্মকথা (The Autobiography of Traffic Lights)
সেজাদায় যাওয়ার পূর্বে আমাদের কিছু কথা বলে যাই। ঢাকা শহরের সকল ট্রাফিক লাইট সংঘের পক্ষে থেকে আমি পান্থপথ মোরের ট্রাফিক লাইট বলছি।
আমাকে এখানে দাড় করানোর জন্য অনেক কাঠ খড় পোড়াতে হয়েছিল। আমাকে নিয়ে হয়েছিল কতই না দূর্নীতি। আমার যা মূল্য তার শতগুন টাকার বাজেট করে শেষমেষ বসালো। বসানো সময় আমাকে আমার নিয়ম কানুন শিখিয়ে ও দিয়েছিল। আমকে তারা সকল সুবিধা দিবে বলে আশ্বাস ও দিয়েছিল। যেমনঃ আমি অসুস্থ হলে আামকে ডাক্তার দেখানো, রোদ বৃষ্টিতে চামড়া পুড়ে কালো হলে তাহার প্লাস্টার সার্জারী, অথবা ঝড়ে মধ্যে আহত হয়ে রাস্তার মাঝে পড়ে থাকলে। তাহার ও সুব্যবস্থা আছে। এমন আরো কত কি সুবিধা? আমি তো খুশিতে রিতি মত লাফালাফি করাছিলাম। নিজের মধ্যে খুব আনন্দও লাগছিল বই কি। এটা ভেবে যে আমি কত্ত কত্ত মানুষকে একটা সুন্দর ঢাকার শহর উপহার দিব। সাজানো গোছানো। সবাই আমাকে দেখে শৃঙ্খলার মধ্যে দিয়ে দেশটাকে সুন্দর করবে।
কেউ কথা রাখেনি। আমি যে আজ কত বছর ধরে রুকু দিয়ে দাড়িয়ে আছি? কেউ আমার খোজ ও নেয়না। আমি নিজেই ভুলে গেছি কবে আমি আমার লাল, হলুদ, সবুজ বাতি জ্বালিয়ে দাড়িয়েছিলাম?
আমার বয়স ও হয়ে গেছে একে একে আমার শরীরের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ খুলে পরছে। শুনছি তারা আমার সুবিধার টাকা গুলো প্রতি বছর বছর বাজেটে বেড়িয়েই চলছে। কিন্তু আমাদের প্রযন্ত আসেনি। এখন দেখি উল্টো নতুন নিয়োগ দিয়ে জনোবল রাখছে যে নাকি তার ডান হাত আর বাম হাতে কাজ চালিয়ে যায়। জনগনের কত্ত আহাজারির স্বাক্ষী আমরা। পুলিশের এক লেন ৫ বার ছাড়ে আবার কোন লেন ১৫ মিনিটে ও একবার ছারে না। আবার ছাড়লেও ১ মিনিটের ও কম সময় রাখে। কষ্টে, রাগে, ক্ষোভে PK Movie এর আমির খানের মত বলতে ইচ্ছে হয় " ভগবান কাহাহে তু" এখানে আমাদের চিকিৎসা করে রুকু থেকে দাড় করিয়ে দিলে সবাই সমান সমান সময় পেত। এখননও পুলিশ দাড়িয়ে তাদের ডান, বাম হাতে কাজ করছে তখনও পুলিশ দাড়িয়ে থাকতো কিন্তু ডান বাম হাতের কাজ করা লাগতো না। তখন পুলিশ শুধু যারা নিয়ম ভাঙ্গতো তাদের শাস্তি দিত। তাহলে কতই না সুন্দর হত আমাদের প্রানের শহর ঢাকা।
লেখক:
রনো ইসলাম

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন